বিশ্বম্ভরপুরে অবৈধ বালু–পাথর উত্তোলনবিরোধী মোবাইল কোর্ট
একজনকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, ট্রাকভর্তি পাথর–বালু জব্দ
মো: শুকুর আলী,স্টাফ রিপোর্টার:
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের ধোপাজান নদীর পশ্চিম পাড়ে জিনারপুর নৌকাঘাট এলাকায় অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন প্রতিরোধে মঙ্গলবার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল মতিন খান। অভিযানে সহায়তা করেন বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশের সদস্যরা।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পেয়ে একজনকে ৫,০০,০০০ (পাঁচ লাখ) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে ঘটনাস্থলেই জরিমানার পুরো অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
অভিযান চলাকালে নদীপাড়ে অবস্থানরত কয়েকটি ট্রাক থামিয়ে বৈধ কাগজপত্র যাচাই করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ সময় একটি ট্রাকে অবৈধভাবে উত্তোলিত পাথর ও বালু পরিবহনের প্রমাণ মেলে। ট্রাকটি জব্দ করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে রাতের অন্ধকারকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে নদী থেকে উত্তোলিত পাথর ও বালু ট্রাকে করে পাচারের চেষ্টা চলছিল। প্রশাসনের এবারের কড়া নজরদারিতে সেই চক্রের গতিবিধিও নথিভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযান শেষে ইউএনও আবদুল মতিন খান বলেন,
“সরকারি সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু–পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়মিত অভিযান চলবে এবং কেউই ছাড় পাবেন না। যারা পরিবেশ ধ্বংস করবে—তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, অবৈধ উত্তোলনে ব্যবহৃত ট্রাক, যন্ত্রপাতি কিংবা এক্সকাভেটর—যে কোনো কিছুই জব্দ করা হবে।
ধোপাজান নদীর তীরবর্তী স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ উত্তোলনের কারণে নদীভাঙন, পরিবেশ বিপর্যয়, কৃষিজমি নষ্ট ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি দিন দিন বাড়ছিল। নতুন ইউএনওর অভিযানকে তারা দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হিসেবে দেখছেন।
একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন—
“বছরের পর বছর নদী খুঁড়ে পরিবেশ নষ্ট করা হয়েছিল। এই অভিযান না হলে নদীটা আর বাঁচত না।”স্থানীয়দের আশা, নবাগত ইউএনওর কঠোর তদারকি ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে বালু–পাথর চোরাচালান কমবে, পরিবেশ রক্ষা পাবে এবং বিশ্বম্ভরপুরে প্রশাসনিক সুশাসন আরও জোরদার হবে।


0 coment rios: