Friday, May 30, 2025

সুনামগঞ্জে বাবাকে হাওরে খাবার খাওয়াতে গিয়ে প্রা ণ গেল স্কুলছাত্রের

সুনামগঞ্জে বাবাকে হাওরে খাবার খাওয়াতে গিয়ে প্রা ণ গেল স্কুলছাত্রের

 


হাওরে বাবাকে দুপুরের খাবার পৌছাতে পারেনি স্কুলছাত্র আমির হোসেন (১৫)। পথিমধ্যে বজ্রপাতে প্রাণ গেল তার।


বুধবার (২৮ মে) দুপুরে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বগুলাবাজার ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রাম সংলগ্ন হাওরে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত আমির হোসেন ওই গ্রামের ফজল হকের ছেলে ও স্থানীয় লিয়াকতগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল থেকে গ্রাম সংলগ্ন হাওরে ধান কাটছিলেন কৃষক ফজল হক। ছেলে আমির হোসেন বাবার জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে হাওরে যাচ্ছিল।


কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস! পথিমধ্যে টানা বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হয় আমির হোসেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Tuesday, May 27, 2025

হাসপাতালের ওষুধ বিক্রি হয় ফার্মেসীতে

হাসপাতালের ওষুধ বিক্রি হয় ফার্মেসীতে

 


সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের অফিস প্রধান থেকে শুরু করে নিম্ন পদস্থ কর্মচারীরা নিয়মিত অফিস করেন না। হয় অনুপস্থিত থাকেন, না হয় বিলম্বে আসেন। বেসরকারি ফার্মেসীতে বিক্রয় হয় সরকারিভাবে ক্রয় করা ওষুধ। সোমবার দুপুরে এক অভিযানে এমন অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুদক। সিলেট দুদকের কর্মকর্তারা এই অভিযান পরিচালনা করেন। 

দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দুদকের অভিযান চলে হাসপাতালে। এসময় হাসপাতালের বিভিন্ন ফ্লোরের ওয়াশরুমের পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের মান যাচাই—বাচাই করা হয়। বহি:বিভাগে ডাক্তারের সহকারীরা রোগীর ব্যবস্থাপত্র লেখা, ডিসপেনসারিতে রোগীদের দেওয়া ওষুধ পাওয়ার স্লিপে ডাক্তারের নাম পদবি ও সিল না থাকা, রেজিস্ট্রার খাতায় ও স্টোররুমে থাকা ওষুধের গরমিল দেখতে পান দুদক কর্মকর্তারা। তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে কয়েকঘণ্টা যাচাই—বাছাইকালে বিগত সময়ের সকল দরপত্রের কাগজপত্র চান তারা। কিন্তু উপস্থিত হাসপাতাল কর্মকর্তারা তত্ত্বাবধায়ক না থাকায় এসব কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি। এছাড়াও গেল মে মাসের আগের ওষুধ কেনার ফাইলপত্র বা কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি উপস্থিত দায়িত্বশীলরা। এসময় দুদক কর্মকর্তারা বলেন, সবকিছুই হাসপাতালের সাবেক স্টোর কিপার সোলেমান গায়েব করে ফেলছে। 

অভিযান শেষে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় সিলেটের সহকারী পরিচালক জুয়েল মজুমদার বলেন, হাসপাতালের অফিস প্রধান থেকে শুরু করে নিম্ন পদস্থ কর্মচারীরা নিয়মিত অফিস করেন না। হয় অনুপস্থিত থাকেন, না হয় বিলম্বে আসেন। অধিকাংশই অর্থাৎ অর্ধেকেই অনুপস্থিত থাকেন। আজকে এসে আমরা দুইজন অনুপস্থিত পাই। এরমধ্যে অফিস প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান এবং মেডিকেল টেকনিক্যাল অফিসার আনোয়ার হোসেনকে অনুপস্থিত পেয়েছি। আনোয়ার হোসেন অনুপস্থিত, কিন্তু কোনো ছুটির আবেদন নেই। এ বিষয়ে অফিস প্রধানের দায়িত্বে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে যিনি আছেন, তিনি কিছুই জানেন না। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মৌখিকভাবে আনোয়ার হোসেনকে ছুটি দিয়েছেন। আনোয়ার হোসেন নিয়মিত অফিস করেন না, এই অভিযোগ আমাদের কাছে রয়েছে। 

এছাড়াও হাসপাতাল থেকে অধিকাংশ কর্মকর্তা—কর্মচারী যখন বের হয়ে যায়, তখন তারা বায়োমেট্রিক ব্যবহার করেন না। এতে করে তারা কয়টায় বের হয়ে গেলো, তার ডকুমেন্ট নেই।

তিনি আরও বলেন, বড় যে অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেটা হচ্ছে, হাসপাতালের ডিসপেনসারিতে বেসরকারিভাবে দরপত্রের মাধ্যমে সংগ্রহ করা ওষুধের পরিমাণ রেজিস্ট্রার খাতায় এন্ট্রি করা নেই। কিন্তু গোডাউনে অনেক এন্টিবায়োটিক ওষুধের মধ্যে তিন ধরনের এন্টিবায়োটিক ওষুধ পেয়েছি। যেগুলো রেজিস্ট্রার খাতায় এন্টি্র নেই। এছাড়াও সুলেমান নামে একজন স্টোরকিপার ছিলেন, তিনি রেজিস্ট্রার মেইনটেইন করেন নি। বেসরকারি ওষুধের তালিকা তিনি রেজিস্ট্রার খাতায় এন্ট্রি করতেন, সেই খাতা আমরা পাইনি। অর্থাৎ গত মে মাসের আগের কোনো প্রমাণ আমরা পাই নি। ক্রয়কৃত ওষুধের রেজিস্ট্রার নেই। বছরে কমপক্ষে দুই থেকে তিন কোটি টাকার ওষুধ ক্রয় করা হয়। এরমধ্যে অধিকাংশ টাকাই আত্মসাৎ করা হয়েছে। এইটার জন্য সাবেক স্টোরকিপার সুলেমানকে বর্তমান কর্মকর্তারা দায়ী করছেন। বর্তমানে যে ওষুধ বিতরণ কর্মকর্তা রয়েছে, তারও অনেক দায় আছে। স্টোরে অনেক এন্টিবায়োটিক ওষুধ পেয়েছি। এগুলো রেজিস্ট্রার খাতায় এন্ট্রি নেই। এগুলো ফার্মেসিতে বিক্রয় হয় বলেও মন্তব্য করেন তারা। 

দুদকের এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা অনিয়মের অনেক কাগজপত্র সংগ্রহ করেছি। এই কাগজপত্র এবং রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, রোগীদের বাথরুমগুলো অপরিষ্কার। এই বাথরুমগুলোতে রোগীদের যাওয়ার কোনো উপায় নেই। কিন্তু, ডাক্তারের যে ওয়াশরুম রয়েছে, সেগুলো আবার পরিস্কার আছে। 

ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিষ্ণু প্রসাদ চন্দ বলেন, আমাদের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান স্যার ব্যক্তিগত কারণে ছুটিতে থাকায় সাময়িকভাবে আমাকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। দুপুর বারোটার দিকে দুদক টিম হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন। তারা তিনতলা থেকে চতুর্থ তলা, ষষ্ঠ তলা এবং ডিসপেনসারিতে যান। তারা খাদ্যের মান দেখেন, ডিসপেনসারিতে ওষুধপত্র দেখেন, রেজিস্ট্রার খাতাপত্র দেখেছেন। 

তিনি বলেন, তারা ওষুধের রেজিস্ট্রার খাতা, বিভিন্ন নথিপত্র নিয়ে গেছেন। এগুলো পর্যালোচনা করে দেখবেন। সেবার মান আরও উন্নত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে অনিয়মের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান তিনি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান জানালেন তিনি ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় গেছেন। দুদকের কর্মকর্তারা হাসপাতালে গেছেন জেনেছেন তিনি। তিনি বলেন, আমি বিষয়টি ইতিবাচক দেখি। তাদের যাচাই—বাছাই বা পর্যালোচনায় কোন অভিযোগ পরিলক্ষিত হলে, আমরাও সেটি পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

প্রসঙ্গত. সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ওষুধ কেনাসহ নানা বিষয়ে দুর্নীতি অনিয়ম হচ্ছে দাবি করে রোববার সিলেটের দুদকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মুনাজ্জির হোসেন সুজন।  

Sunday, May 25, 2025

সারাদেশে ৪০০ টাকায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট

সারাদেশে ৪০০ টাকায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট

 


সারাদেশে এক রেটে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার জন্য আইএসপিগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।


সম্প্রতি বিটিআরসি এক নির্দেশনায় মহানগর, জেলা শহর, উপজেলা এবং ইউনিয়নপর্যায়ে পাঁচ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট মাসিক সর্বোচ্চ ৪শ টাকায় দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।


নির্দেশনায় বলা হয়, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের মূল্য যুক্তিসংগত পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য একটি বাস্তবসম্মত এবং গ্রাহকবান্ধব ইন্টারনেট ট্যারিফ প্রণয়নে সরকারিবেসরকারি সব ধরনের আইএসপিদের জন্য বিটিআরসি একটি খসড়া ট্যারিফ প্রস্তুত করে তা অনুমোদনের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠায় এবং পরবর্তীতে সরকার ট্যারিফটি অনুমোদন করেন।


এ ছাড়াও সারাদেশে ১০ এমবিপিএস ৭শ টাকা এবং ২০ এমবিপিএস ১১শ টাকা।


ট্যারিফের শর্তাবলি:


বিটিআরসি’র লাইসেন্সধারী সকল সরকারি/বেসরকারি বিভিন্ন ধরনের আইএসপি প্রতিষ্ঠানের জন্য উল্লিখিত ট্যারিফটি ১ জুলাই থেকে প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের জন্য নির্ধারিত থাকবে এবং পরবর্তীতে নতুন করে ট্যারিফ নির্ধারিত না হলে কমিশনের অনুমোদনক্রমে তা বলবৎ থাকবে। তবে কমিশন বাজার চাহিদা ও গ্রাহক স্বার্থ বিবেচনায় যে কোনো সময় তা পরিবর্তন করতে পারবে।


গ্রাহক সেবা ও সেবার মান নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় জরিমানা শর্তসহ সেবার মান বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি সেবার মানদণ্ড নির্ধারণে এ, বি, সি গ্রেড মোতাবেক গ্রেড অব সার্ভিস বজায় রাখতে প্রতিটি আইএসপি বাধ্য থাকবে। সব ধরনের আইএসপির ক্ষেত্রে গ্রাহক পাঁচদিন অব্যাহতভাবে ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন থাকলে মাসিক বিল ৫০ শতাংশ দেবে, ১০ দিন অব্যাহতভাবে ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন থাকলে মাসিক বিলের ২৫ শতাংশ দেবে এবং ১৫ দিন অব্যাহতভাবে ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন থাকলে ওই মাসে কোন মাসিক বিল দেবে না।


সরকারের অনুমোদিত ইন্টারনেট স্পিড সর্বনিম্ন সীমা পাঁচ এমবওপিএস বিদ্যমান রেখে ট্যারিফের তালিকা অনুযায়ী ৫, ১০, ২০ অথবা কামেকশন র‌্যাশিও ১:৮-কে আনুপাতিক হারে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে কমিশনের অনুমোদনক্রমে গ্রাহকদের আইএসপি অন্যান্য প্রোডাক্টসেবা দিতে পারবে।


কমিশন থেকে অনুমোদিত ট্যারিফ চার্ট আইএসপিদের নিজস্ব ওয়েব সাইটে প্রকাশ করতে হবে এবং অনুমোদিত সেবা বা ট্যারিফে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা সংযোজন গ্রহণযোগ্য নয়।


ট্যারিফের বাইরে অনুমোদন ব্যতীত কোন সেবা/প্রোডাক্ট পরিচালনা করলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইনানুযায়ী ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কমিশন আইনি ব্যবস্থা নেবে।


গ্রাহক অভিযোগ (টিকেটিং নাম্বারসহ) দ্রুততার সাথে সমাধান করতে হবে, গ্রাহকের কোন অভিযোগপ্রাপ্ত হলে বিটিআরসি প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে এবং গ্রাহক অভিযোগ ও অভিযোগ সমাধানের তথ্য কমপক্ষে ছয় মাসের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।


এমআইএইচ/এএটি

Saturday, May 24, 2025

তাহিরপুরে ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী আটক

তাহিরপুরে ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী আটক

 


তাহিরপুরে ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলো— উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বারহাল গ্রামের ফারুক মিয়া (৩৬), শিমুলতলা গ্রামের রানা (২১) মিয়া এবং পার্শ্ববর্তী কামড়াবন্দ গ্রামের সারোয়ার মিয়া (১৯)।



জানা যায়, শুক্রবার মধ্যরাতে বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের একটি টিম উপজেলার শিমুলতলা গ্রামের শাহজাহানের ঘরে অভিযান চালায়। এসময় ১৭ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।



বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হাফিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহজাহানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে হাতে নাতে আটক করা হয়েছে। এসময় শাহজাহান পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পলাতক শাহজাহানকে আসামি করে তাহিরপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Friday, May 23, 2025

শুধু ইলেকশন দেওয়ার জন্য আমরা দায়িত্ব নিইনি: উপদেষ্টা রিজওয়ানা

শুধু ইলেকশন দেওয়ার জন্য আমরা দায়িত্ব নিইনি: উপদেষ্টা রিজওয়ানা

 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান -সংগৃহীত ছবি



পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, আমাদের তিনটা মোটা দাগের দায়িত্ব- সংস্কার, বিচার ও ইলেকশন। তিনটিই কঠিন দায়িত্ব। ‌শুধু ইলেকশন করার জন্য আমরা দায়িত্বটা নিইনি। শুক্রবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বাংলাদেশ প্রাণিবিদ্যা সমিতির ২৪তম জাতীয় সম্মেলন এবং বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।


 


দায়িত্ব পালন করতে পারছেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, ‘অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমরা অনেক দূর এসেছি। সংস্কার কমিশনগুলো তাদের রিপোর্ট দিয়েছে। সে রিপোর্টের উপর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সকল রাজনৈতিক দল সেখানে অংশগ্রহণ করছে। আমরা একটা নির্বাচনের সময়সীমা বলে দিয়েছি। বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগে ট্রাইব্যুনাল একটা ছিল, এখন দুইটি হয়েছে। আগামীকাল থেকে ট্রায়ালের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এই কাজগুলো আমরা সঠিক প্রক্রিয়ায় শেষ করতে চাই। এতে সবার সহযোগিতা চাই।’


 


সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়সীমার বাইরে একদিনও যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচন ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যেই হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পরিষদ কাজ করে যাচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কাজেই নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা বলার সুযোগ হওয়ার প্রয়োজন ছিল না। কারণ বারবারই বলা হচ্ছে, একটা সময়সীমা দিয়ে দেওয়া হয়েছে।’


 


আপনারা কোন চাপে আছেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা পারফর্ম করতে পারছি কিনা- আমাদের বিবেচনা ও বিবেকে ওইটাই একমাত্র চাপ। আপনি চাইলেই হঠাৎ করে সচিবালায় যেতে পারবেন না। অথচ এ রকম অনেক দাবি আছে, যেগুলো রাস্তা বন্ধ না করে আলাপ-আলোচনার মধ্যেই সমাধান করা যায়।’


 


সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যার যত দাবি আছে, তা নিয়ে রাস্তা আটকে দিচ্ছে। ঢাকা শহর অচল হয়ে যাচ্ছে। সেই অচল অবস্থা নিরসনে আমরা কিছু করতে পারছি কিনা। আমরা ক্ষমতা নিইনি, জাতীয় দায়িত্ব পালন করছি। এই দায়িত্বটা তখনই পালন করতে পারব যখন সকলের সহযোগিতা পাব। আমরা চিন্তা করেছি, আসলেই আমরা দায়িত্ব পালন করতে পারছি কিনা। বড় দাগে তিনটা দায়িত্ব পালন করার জন্য যে প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে, এই প্রতিবন্ধকতা আমরা কীভাবে মোকাবিলা করব, আদৌ মোকাবিলা করতে পারবো কিনা, যদি মোকাবিলা করতে পারি- কীভাবে করব, যদি মোকাবিলা করতে না পারি তাহলে আমাদের কী করণীয় হবে- আমরা সকলে মিলে এটা চিন্তা করছি। আমরা যদি আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারি তাহলে দায়িত্বে থাকাটা প্রাসঙ্গিক। আর যদি না পারি, আমাদের নিজস্ব অনেক কাজ আছে, আমরা সেই কাজে ফিরে যাব। দায়িত্ব পালন করতে না পারলে দায়িত্বে থাকাটা আর প্রাসঙ্গিক থাকছে না।’

সূত্র:সমকাল.কম

Thursday, May 22, 2025

ছাতকে ২২৭ প্রকল্পের টাকা নিয়ে লাপাত্তা পিআইও!

ছাতকে ২২৭ প্রকল্পের টাকা নিয়ে লাপাত্তা পিআইও!

 


ছাতকে ২২৭ প্রকল্পের টাকা নিয়ে লাপাত্তা পিআইও!


সুনামগঞ্জ জেলার ছাতকে টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও এডিপির ২২৭টি প্রকল্পের ঘুসের টাকা নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা (পিআইও) কেএম মাহবুর রহমান ৫দিন ধরে লাপাত্তা। পিআইও কার্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় কাজ করে বিলের টাকা পাচ্ছেন না প্রকল্পের কমিটির সদস্যরা।


জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও এডিপির ২২৭টি প্রকল্পের ঘুস গ্রহণের অভিযোগ ওঠে ছাতকের পিআইওর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পিআইওকে ১৬ মে সন্ধ্যায় বাসায় ডাকেন ইউএনও। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাতক পিআইও কার্যালয়ের কার্যসহকারি নাজমুল ইসলামও। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং প্রকল্পের কোনো ধরণের ঘুস গ্রহণের অভিযোগ ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন ইউএনও।


পরদিন শনিবার অফিস করেননি পিআইও কেএম মাহবু্ব রহমান। ওইদিন রাতে ইউএনও বরাবরে তিন দিনের ছুটি চেয়ে একটি আবেদন লিখে ইউএনওকে না দিয়ে নিজ কার্যালয়ের টেবিলে রেখে কৌশলে ছাতক ছেড়ে যান পিআইও। 


ঘুস দুর্নীতির টাকা হজম করতে ওই পিআইও জেলা প্রশাসকের কাছে ছাতকের ইউএনও ও পিআইও অফিসের কার্যসহকারির বিরুদ্ধে একটি নাটক সাজিয়ে অভিযোগ করেন। 


গত মঙ্গলবার কার্যসহকারি নাজমুল ইসলামকে ছাতক থেকে রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলায় বদলি করা হয়। পিআইওর ঘুস দুর্নীতি প্রকাশের ভয়ে এখান থেকে বদলির চেষ্টা চালানো হয়।


উপজেলার মুক্তিরগাঁও গ্রামের ইজাজুল হক রনি জানিয়েছেন, তিনি মুক্তিরগাঁও গ্রামের রাস্তার উভয় পাশে মাটি ভরাট কাজের সেক্রেটারি। তার কাছ থেকে সরকারি খরচের নামে ২৪ হাজার ৫শ’ টাকা নিয়েছেন পিআইও কেএম মাহবুবুর রহমান। 


হাসনাবাদ-নয়া লম্বাহাটি রাস্তায় মাটি ভরাট কাজের সেক্রেটারি বাহাউদ্দিন শাহীর কাছে ১২ হাজার টাকা চেয়েছেন ওই পিআইও। এছাড়া প্রকল্পের খরচের নামে ওই পিআইও প্রকল্প কমিটির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 


এ ব্যাপারে উপজেলা পিআইও অফিসের কার্য সহকারি নাজমুল ইসলাম এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন ইউএনও ও পিআইওর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। গত শনিবার থেকে পিআইও অফিসে নেই। শুনেছেন ওই পিআইও তাকে এখান থেকে বদলি করান। 


এ বিষয়ে পিআইও কেএম মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। 


জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ছাতকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হিসেবে যোগ দেন কেএম মাহবুব রহমান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কৌশলে এখান থেকে বদলির চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন ওই পিআইও। 


গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি ১৪ মে পর্যন্ত ট্রেনিংয়ে থাকা অবস্থায় দুই মাস ওই পিআইও’র অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন দোয়ারাবাজারের পিআইও লুৎফুর রহমান। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। 


এদিকে প্রকল্পের টাকা লেনদেনের ঘটনা অস্বীকার করেন দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান। ইউএনও পিআইও’র মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও নাজমুলের বদলির ঘটনা তিনি শুনেছেন বলে জানান।

শান্তিগঞ্জে কুখ্যাত জব্বার ডাকাত গ্রেফতার।

শান্তিগঞ্জে কুখ্যাত জব্বার ডাকাত গ্রেফতার।

 


সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে ডাকাতিসহ একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী আব্দুল জব্বার (৫২)। বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাতে ছাতক থানা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।



গ্রেফতারকৃত আব্দুল জব্বার শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাঁক ইউনিয়নের থলেরবন্দ গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে।



শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আকরাম আলীর দিক নির্দেশনায় পুলিশ ও র‍্যাব-৯ এর সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে আব্দুল জব্বারকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং সে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল।


গ্রেফতারের পর তাকে সুনামগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন শান্তিগঞ্জ থানার ওসি মো. আকরাম আলী।

Wednesday, May 21, 2025

বিএনপি নেতার গুদাম থেকে ৫ হাজার কেজি সরকারি চাল উদ্ধার

বিএনপি নেতার গুদাম থেকে ৫ হাজার কেজি সরকারি চাল উদ্ধার

 


জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিএনপি নেতা আলী হোসেনের মালিকানাধীন একটি গুদাম থেকে ১০৪ বস্তা সরকারি ভিজিডি চাল উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী। মঙ্গলবার (২০ মে) রাতে পরিচালিত অভিযানে এসব চাল উদ্ধার করা হয়।


 


 



উদ্ধার হওয়া চালের পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ২০০ কেজি। এ ঘটনায় রাতেই অবৈধ মজুত ও কালোবাজারির অভিযোগে অভিযুক্ত আলী হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়।


 


 


গুদাম মালিক মো. আলী হোসেন সরিষাবাড়ী পিংনা ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং বাসুরিয়া গ্রামের মৃত লাল মাহমুদের ছেলে। সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুদের ঘটনায় অভিযুক্ত আলী হোসেন পলাতক আছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।


 


 


পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিজা রিছিল এবং সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট শাহারিয়া তালুকদার রিফাত। অভিযান চলাকালে আলী হোসেনের মালিকানাধীন গুদাম থেকে সরকারি ভিজিডি কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত সরকারি সিলযুক্ত ৫০ কেজির ১০৪টি বস্তা পাওয়া যায়। যেখানে প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি করে প্রায় ৫ হাজার ২০০ কেজি চাল রয়েছে। উদ্ধার হওয়া চালগুলো পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।


 


   


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিজা রিছিল জানান, সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুত করে তা কালোবাজারিতে বিক্রির উদ্দেশ্যেই গুদামে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আমরা চালগুলো জব্দ করেছি এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন অভিযান চলবে।


 


 


সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাশেদুল হাসান বলেন, উদ্ধার করা চালগুলো পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। অভিযুক্ত আলী হোসেনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সূত্র: ইত্তেফাক .কম

Monday, May 19, 2025

ধর্মপাশায় বজ্রপাতে গরুর মৃত্যু

ধর্মপাশায় বজ্রপাতে গরুর মৃত্যু

 


ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের জিংলীগড়া গ্রামে বজ্রপাতে কৃষকের গরুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত গরুটি ছিল ওই গ্রামের মাসুদ আকন্দের। ঘটনাটি ঘটে সোমবার দুপুরে যখন মাসুদ আকন্দের গরুটি অস্থায়ী একটি ছাউনিতে ছিল।



মাসুদ আকন্দের ছোট ভাই ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মামুন আকন্দ জানান, বসত বাড়ির পাশে গরু রাখার জন্য একটি অস্থায়ী ছাউনিতে তিনটি গরু বাঁধা ছিল। হঠাৎ প্রবল বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হলে একটি বজ্রপাত সরাসরি অস্থায়ী ছাউনির কাছে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় গরুটি এবং অন্য একটি গরু প্রায় ১ ঘন্টা পরে জ্ঞান ফিরে পায়।



মাসুদ আকন্দ জানান, এই গরুটাই ছিল আমার একমাত্র ভরসা। গরুটি আসছে কোরবানির ঈদে বিক্রি করে সংসারের যাবতীয় চাহিদা মেটাতে পারতাম, কিন্তু সব আশা গুড়েবালি। তিনি আরও জানান, গরুটির আনুমানিক বাজার মুল্য প্রায় এক লক্ষ পঞ্চাশ টাকার মতো হতো।

Sunday, May 18, 2025

জুলুম না করা আওয়ামী লীগের কর্মীরা বিএনপির সদস্য হতে পারবে: আমীর খসরু

জুলুম না করা আওয়ামী লীগের কর্মীরা বিএনপির সদস্য হতে পারবে: আমীর খসরু




আওয়ামী লীগের চিহ্নিত দোসররা বিএনপির সদস্য হতে পারবে না। তবে যারা বিএনপির কার্যক্রমে বাধা দেয়নি, হয়রানি করেনি কিংবা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছে, তারা চাইলে বিএনপির সদস্য হতে পারবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।


শনিবার (১৭ মে) দুপুরে চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়িতে বিভাগীয় পর্যায়ে সদস্য ফরম বিতরণ ও নবায়ন কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।


আমীর খসরু বলেন, দেশের বৃহত্তর অংশকে বিএনপির সদস্য করতে হবে। তবে সমাজের অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজদের সদস্য কার্যক্রমের বাইরে রাখার চেষ্টা করতে হবে। এ সময় সদস্য কার্যক্রম দৃশ্যমান করার কথাও বলেন তিনি।


তিনি আরও বলেন, বিগত ১৫ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীরা মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছে, পালিয়ে বেড়িয়েছে। বড় দল হিসেবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে পারেনি বিএনপি। এজন্য দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে হবে।


এ সময় যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানান, আগামী দিনে যারা প্রতিযোগিতায় আসতে চায়, তারা বিএনপির সাথে পারবে না। বিএনপি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দল। কোনো ষড়যন্ত্র দলের অগ্রযাত্রার পথে বাধা হতে পারবে না।

শেখ হাসিনা-পুতুলসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২৫ মে

শেখ হাসিনা-পুতুলসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২৫ মে

 


রাজধানীর পূর্বাচলে দশ কাঠার প্লট জালিয়াতির ঘটনায় দুদকের দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ মে দিন ধার্য করেছেন আদালত।

 

 

আজ রোববার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালতে আসামিদের গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না করায় বিচারক নতুন ধার্য করেন। 

 


এর আগে ১০ এপ্রিল ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গালিব মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে শেখ হাসিনা-পুতুলসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

 

 

শেখ হাসিনা-পুতুল ছাড়াও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া অপর ১৬ আসামি হলেন- জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, রাজউকের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, কবির আল আসাদ, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), মো. নুরুল ইসলাম, পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান ও হাবিবুর রহমান, তদন্ত প্রাপ্তে আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন ও সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

 

 

রাজধানীর পূর্বাচলে দশ কাঠার প্লট জালিয়াতির ঘটনায় গত চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া বাদী হয়ে শেখ হাসিনা-পুতুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে গত ১০ মার্চ তদন্তে আরও দুই আসামিসহ শেখ হাসিনা-পুতুলসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। চার্জশিটে সাক্ষী করা হয়েছে ১৬ জনকে। 

 

 

মামলার এজাহারে বলা হয়, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় নিজের ও পরিবারের অন্য সদস্যদের মালিকানায় ঢাকা শহরে রাজউকের এখতিয়ারাধীন এলাকায় বাড়ি বা ফ্ল্যাট বা আবাসন সুবিধা থাকার পরও সেটি গোপন করে পূর্বাচল নতুন শহর আবাসন প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ-সংক্রান্ত আইন, বিধি ও নীতিমালা ও আইনানুগ পদ্ধতি লঙ্ঘন করে মা শেখ হাসিনার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। সরকারের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ও পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে বহাল থাকা অবস্থায় তার ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে প্রকল্পের বরাদ্দবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত গণকর্মচারীদের প্রভাবিত করেছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইনসম্মত পারিশ্রমিক না হওয়া সত্ত্বেও, আইনমতে বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও পরস্পর যোগসাজশে নিজেরা লাভবান হয়ে ও অন্যকে লাভবান করার উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তার ১৭ নম্বর প্লট সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে বরাদ্দ দিয়েছেন। 

 

 

সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্লটের বাস্তব দখলসহ রেজিস্ট্রিমূলে প্লট গ্রহণ করেন। প্রতারণামূলক অবৈধ পারিতোষিক দেওয়া ও নেওয়া এবং অপরাধজনক, বিশ্বাস ভঙ্গ ও বেআইনি অনুগ্রহ প্রদর্শনের মাধ্যমে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে দণ্ডযোগ্য অপরাধ করেছেন।
সূত্র:সমকাল.কম 
জআ

জাতীয় থেকে আরো পড়ুন

Saturday, May 17, 2025

চাপে পড়েছেন ভারতে আশ্রয় নেওয়া আ. লীগ নেতারা

চাপে পড়েছেন ভারতে আশ্রয় নেওয়া আ. লীগ নেতারা

 


সরকার পতনের পর ৯ মাসেরও বেশি সময় নিরাপদে ভারতে থাকলেও অবৈধ নাগরিকের বসবাস ঠেকাতে ভারত সরকারের বর্তমান অবস্থানের কারণে চাপে পড়েছেন সে দেশে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের নেতারা। ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের লক্ষাধিক নেতাকর্মী এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।



সম্প্রতি ভারত সরকার অবৈধ সবাইকে ভারত ছাড়তে বলেছে। এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের আটক করে ‘পুশব্যাক’ করছে ভারত।


 


এ পুশব্যাকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এখনো না পড়লেও স্বল্প সময়ের মধ্যেই তাদের ওপরও এ খড়গ নেমে আসবে বলে জানা গেছে।



জানা গেছে, নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নিতে ভারতের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আরো দু-তিন মাস সময় দিতে চান। আগামী আগস্টে ভারত সরকার গ্রেপ্তার অভিযান আরো বাড়াবে।


দেশটির সরকার পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদেরও ভারত ছাড়ার চাপ দিয়েছে।


 


 


পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, অরুণাচল, মেঘালয়সহ ভারতের আরো কয়েকটি রাজ্যে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের লক্ষাধিক নেতা আশ্রয় নিয়েছেন। এরই মধ্যে গত ১০ মে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ অবস্থায় দলটির পালিয়ে যাওয়া নেতাকর্মীদের দেশে ফেরা আরো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তবে ভারত সরকার কোনোভাবেই সে দেশে অবৈধদের রাখতে চায় না।


 


বাংলাদেশে ফেরার নিরাপত্তাঝুঁকি থাকলে অন্য দেশে আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও পলাতক আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন।


 



ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, দেশে ফেরার মতো পরিস্থিতি এখনো সৃষ্টি হয়নি। জীবনের ঝুঁকি কাটেনি। ফলে ভারত ছাড়া তাদের জন্য বেশ বিপদের। এরই মধ্যে প্রায় ৫০ জন বড় নেতা ভারত ছেড়ে আমেরিকা-ইউরোপে চলে গেছেন। বাকিরাও চেষ্টা করছেন পশ্চিমা কোনো দেশে পাড়ি জমানোর। তবে দেশে ফেরার সাহস দেখাতে পারছেন না কোনো নেতা।



৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা নানা উপায়ে প্রতিবেশী ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেক নেতা পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। ভারত সরকার সে সময়ে ঢোকার সুযোগও দিয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাও ভারতে আশ্রয় পেয়েছেন।



 

সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি), মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সহযোগী সংগঠন ও জেলা-উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার নেতা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আশ্রয় নিয়েছেন। সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও ভারতে গেছেন। এ পরিস্থিতিতে ভারত ছাড়ার চাপ সবার ভেতরে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: কালেরকণ্ঠ.কম

Friday, May 16, 2025

জামালগঞ্জ থানা পুলিশ কর্তৃক পরিচালিত ডেভিল হান্ট অপারেশনে নিয়মিত মামলার গ্রেফতার ১

জামালগঞ্জ থানা পুলিশ কর্তৃক পরিচালিত ডেভিল হান্ট অপারেশনে নিয়মিত মামলার গ্রেফতার ১


 


জামালগঞ্জ থানা পুলিশ কর্তৃক পরিচালিত ডেভিল হান্ট অপারেশনে নিয়মিত মামলার গ্রেফতার ১


একুশে জামালগঞ্জ:

জামালগঞ্জ থানা পুলিশ সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক উপ ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক কে গ্রেপ্তার করেছে। তার নাম ফয়জুর রহমান শেরন। সে ভীমখালী ইউনিয়নের চান্দেনগর গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে। 


জানাযায়, পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অফিসার ইনচার্জ, জামালগঞ্জ থানা, সুনামগঞ্জ এর নেতৃত্বে জামালগঞ্জ থানার এসআই(নিঃ)/পঙ্কজ ঘোষ, এসআই(নিঃ)/ সুপ্রাংশু দে দিলু, এএসআই (নিঃ) গোলাম কিবরিয়া, এএসআই/সুমন চন্দ্র দেব সঙ্গীয় ফোর্সসহ জামালগঞ্জ থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন । আজ ১৬/০৫/২০২৫ খ্রিঃ তারিখ জামালগঞ্জ থানাধীন চান্দের নগর নিজ বাড়ী হইতে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামীকে বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ প্রক্রিয়াধীন।

Thursday, May 15, 2025

দুর্নীতির অভিযোগে দুই উপদেষ্টার সাবেক এপিএস-পিওকে ডেকেছে দুদক

দুর্নীতির অভিযোগে দুই উপদেষ্টার সাবেক এপিএস-পিওকে ডেকেছে দুদক

 


এক উপদেষ্টার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) এবং আরেক উপদেষ্টার একজন বর্তমান ও একজন সাবেক ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকে (পিও) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক এক নেতাকে তলব করা হয়েছে।


 


বৃহস্পতিবার দুপুরে এ তথ্য জানান দুদক মহাপরিচালক আক্তার হোসেন।


সাংবাদিকদের দুদক মহাপরিচালক বলেন, তুহিন ফারাবি এবং মাহমুদুল হাসানকে ২০ মে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। এছাড়া গাজী সালাউদ্দিন আহমেদ তানভীরকে ২১ মে এবং মোয়াজ্জেম হোসেনকে ২২ মে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে।


 


উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন এবং উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) ছাত্র প্রতিনিধি তুহিন ফারাবি সম্প্রতি দুর্নীতির অভিযোগে অব্যাহতি পান। তাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করার কথা গত ২৭ এপ্রিল জানান দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।


 


দুর্নীতির অভিযোগে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি পেয়েছেন এ বি এম গাজী সালাউদ্দিন আহমেদ তানভীর। এছাড়া স্বাস্থ্য উপদেষ্টার আরেক পিও মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।


গত ২২ এপ্রিল জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে মোয়াজ্জেম হোসেনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। যদিও উপদেষ্টা নিজেই তাকে ৮ এপ্রিল অব্যাহতির নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর আগে দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের পিও তুহিন ফারাবিকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়।


 


গত ২১ এপ্রিল এনসিপি থেকে গাজী সালাউদ্দিন আহমেদ তানভীরকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। এনসিটিবির পাঠ্যবই ছাপানোর কাগজ কেনা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে তার নাম উঠে আসে।


দুদক মহাপরিচালক বলেন, তুহিন ফারাবির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, তদবির বাণিজ্য, চাঁদাবাজিসহ নানান অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এরই মধ্যে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অনুসন্ধান দল এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে অধিযাচন পত্র পাঠান। এছাড়া বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে, বিভিন্ন দপ্তরে চাহদাপত্র দিয়েছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তারা।


 


তিনি আরও বলেন, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, তদবির বাণিজ্যসহ নানান অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান চলছে। তার বিষয়ে রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে।


এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে সরকারের দুই উপদেষ্টার এপিএস, পিও এবং এনসিপি নেতার দুর্নীতির বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি জানার দাবি নিয়ে দুদক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ। দুপুর ২টার দিকে এই অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়।


 


পরে সংগঠনের দুই নেতা দুদক কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তারা দুর্নীতি অনুসন্ধানের অগ্রগতি জানতে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেন।


সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনতাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, দুদক উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি। আমরা আশঙ্কা প্রকাশ করছি, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে এই তদন্তের বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা হতে পারে। নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুদক কর্তৃক মামলা দায়ের, গ্রেফতারপূর্বক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের আহ্বান করা হচ্ছে।

সূত্র: যুগান্তর.কম

নোয়ারাই ইউপি আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার গ্রেপ্তার

নোয়ারাই ইউপি আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার গ্রেপ্তার


 

ছাতক থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে নোয়ারাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সাত্তার (৪৩) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি নোয়ারাই ইউনিয়নের লক্ষিবাউর গ্রামের মৃত আজাদ মিয়ার ছেলে।



ছাতক থানার এসআই সিকান্দার আলী, এসআই রেজাউল করিম, এএসআই নাসির উদ্দিন বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বুধবার (১৪ মে) রাতে লক্ষিবাউর বাজার এলাকা থেকে মো. আব্দুস সাত্তার কে গ্রেপ্তার করেন।

ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মোহা. মোখলেছুর রহমান আকন্দ জানান, ছাতক থানার মামলা নং—১৫, তাং—১০.০২.২০২৫ খ্রি. এর সন্দিগ্ধ আসামী মো. আব্দুস সাত্তার। গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


ছাতক আওয়ামী লীগ গ্রেপ্তার

Wednesday, May 14, 2025

সুনামগঞ্জের বাঁধনপাড়ায় আ. লীগ নেতার বাসা থেকে গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার

সুনামগঞ্জের বাঁধনপাড়ায় আ. লীগ নেতার বাসা থেকে গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার

 


সুনামগঞ্জ শহরের বাঁধনপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতার বাসা থেকে এক গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ বাড়ির মালিকের ছেলে মেরে ঝুলিয়ে রেখেছে মেয়েটিকে। ওই আওয়ামী লীগ নেতার নাম রেজাউল আলম নিক্কু। তিনি পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান।



নিহত গৃহকর্মীর নাম চম্পা বেগম (১৯)। সে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম বাদশা মিয়া।



প্রতক্ষদর্শীরা জানান, চম্পার মরদেহ বাসার জানালার গ্রিলে ঝুলন্ত অবস্থায় প্রথম দেখতে পান ওই বাড়ির মালিকের ছেলে শুভ। তিনি প্রথমে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। পরে তিনি ঢাকায় অবস্থানরত চম্পার চাচাতো বোনকে বিষয়টি জানান। সেখান থেকেই খবর যায় চম্পার পরিবারের কাছে।



চম্পার বাবা বাদশা মিয়া বললেন, ‘তিন বছর আগে চম্পা ওই বাড়িতে কাজ করতো। তখনও ওদের পরিবারের নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। তাই আমরা তাকে বাড়ি নিয়ে আসি। কিন্তু পরে বাড়িওয়ালা নিক্কু চেয়ারম্যানের অনুরোধে রমজান মাসে মেয়েকে আবার সেখানে পাঠাই। এরপর কয়েকদিন ধরে মারধরের খবর দিচ্ছিলো। এবার আর বেঁচে ফিরল না।’



চম্পার চাচা পিয়ার আলী বলেন, ‘চেয়ারম্যানের ছেলে শুভ মেয়েটাকে মেরে জানালাতে লটকিয়ে রেখেছে। মেয়েটি থাকতো নিচ তলায়, শুভ’র রুমের জানালায় লটকানো পাওয়া গেছে। আমরা আসার পর কাউকে পাই নি। তারা পালিয়েছে।’



অভিযুক্ত শুভ’র বড় ভাই অ্যাড. ইশতিয়াক আলম পিয়াল বললেন, সকালে এই ঘটনা দেখে পুলিশকে ফোন দিয়েছি। পরে জানতে পারলাম এক ছেলের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্ক ছিলো। রাতে নাকি ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছে। স্ট্যাটাস দেখলেও বুঝা যাবে, কীভাবে কী হয়েছে।

প্রতিবেশী তিমন চৌধুরী বললেন, রেজাউল আলম নিক্কুর পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে দেখছি। তাদের ব্যবহার খারাপ, এটি কেউ বলতে পারবেন না। তবুও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে আসা করি।



ঘটনার বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মনিবুর রহমান বললেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

Tuesday, May 13, 2025

ফেসবুকে মাদকাসক্তদের সমালোচনা করার কারনে কলেজ ছাত্রীর ঘরে আগুন!

ফেসবুকে মাদকাসক্তদের সমালোচনা করার কারনে কলেজ ছাত্রীর ঘরে আগুন!

 


মাদকসেবিদের উৎপাতে অতীষ্ঠ হয়ে ফেসবুকে মাদকবিরোধী পোস্ট দেওয়ায় কলেজছাত্রীর ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শহরতলির লক্ষণশ্রী গুচ্ছগ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। আগুনে কোন হতাহত নাহলেও ঘরের একাংশ ও মালামাল পুড়ে গেছে।

সোমবার মধ্যরাতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশ।



ভুক্তভোগী ছাত্রী সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবা সুনামগঞ্জ শহরের ওয়েজখালীর একটি কাপড়ের দোকানের কর্মচারী।



ওই ছাত্রীর দেওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ঘরের বাইরে এক যুবক অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দিচ্ছে। ভেতর থেকে করা ভিডিওটিতে মানুষ দেখা যাচ্ছে না। তবে ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর দাবি আগুন দেয়ার আগের দিন মাদকাসক্ত অবস্থায় মেয়ের ঘরের সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেয় একই গ্রামের যুবক মেহেদী হাসান। এরপর প্রতিবাদ জানিয়ে সহায়তা চাইতে ফেসবুকে একটি গ্রুপে পোস্ট দেন কলেজছাত্রী।



ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, আজকাল প্রত্যেক জায়গায় প্রকাশ্যে মাদক সেবন করতে দেখা যায়। সেদিনও সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়া এলাকায় একজন কে খুন করেছে এক মাদকসেবী। মাদকের বিরুদ্ধে এত প্রচারাভিযান চালানোর পরেও এর কোনো সমাধান হচ্ছে না, দিনদিন আরো প্রকট হচ্ছে এই যন্ত্রণা। আমার গ্রামে প্রকাশ্যে গাঁজা, মদ, জুয়া খেলাসহ অনৈতিক কার্যকলাপ প্রতিনিয়ত চলছে। প্রতিবাদ করার কেউ নেই, কারণ মৃত্যুর হুমকিতে পড়তে হয়। আজকেও বিকালে এক মাদকসেবী খুন করার হুমকি দিয়েছে। এই অবস্থায় কি করা উচিত, প্রশাসন যে জায়গায় নিরব। কোন ঘটনা ঘটার আগে এর সুরাহা না করে, পরবর্তীতে প্রশাসন সে জায়গায় উপস্থিত থেকে সমাধান করার মানেটা কি। আমি কি করবো আমার গ্রামে ১৫ থেকে ২০ জন মাদকসেবী তারা উচ্ছৃঙ্খল, মৃত্যু হুমকি প্রদানকারী, ইভটিজিং সহ আরো অনেক কিছু। বর্তমানে সবজায়গায় সংস্কার চলছে, এটারও সংস্কার প্রয়োজন। জীবনের নিরাপত্তা পাচ্ছি না। কিছু পরামর্শ দেন না হলে হেল্প করেন।’



পোস্ট দেবার পর এদিন রাতেই হঠাৎ তারা দেখতে পান, তাদের ঘরে আগুন জ্বলছে। চিৎকার শুনে গ্রামের কয়েকজন এগিয়ে আসেন, পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। ততক্ষণে ঘরের বাইরের অংশসহ টিন ও মালামাল পুড়ে যায়। কলেজছাত্রীর পরিবারের দাবি, রাতে অন্ধকারে ডিজেল বা পেট্রোল জাতীয় কোনো দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে তাদের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।



ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী বলেন, গ্রামের মাদকসেবীদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। ফেসবুক গ্রুপ সুনামগঞ্জ হেল্পলাইন এই গ্রামের মাদকসেবীদের নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম। এরপর থেকেই নানাভাবে বিরক্ত করছে ও আমার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে একই গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান। সে এলাকায় মাদকসেবী ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তার ভয়ে কেউ কথা বলতে চায় না। আমাদের সন্দেহ মেহেদী ঘরে আগুন দিয়েছে। আমাদের আরেক ভয়, বাবা রাতে দেরিতে বাড়ি ফেরেন। যদি তাকেও কিছু করে ফেলে। আমরা দুই বোন, আমিও বাড়িতে থাকি না। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।


 



ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, মেহেদী গতকাল বিকেলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে গ্রামের একদিক থেকে অন্যদিকে প্রকাশ্যে ঘুরেছে ও মানুষকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। আমরা ভয়ে কিছু বলতে চাই না। কয়েক দিন আগেও সুনামগঞ্জ শহরে মাদকসেবীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে একজন খুন হয়েছেন।



অভিযুক্ত মেহেদী হাসানের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায় নি। তবে তার বোন ফারজানা জান্নাত বলেন, এদের (সাজমিন) সঙ্গে গতকাল সোমবার আমাদের ঝামেলা হয়েছে। আমার ভাই তাদের বাড়িতে আগুন লাগায় নি। আগুন লাগানোর ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না।

সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম বলেন, খবর পেয়ে ওই কলেজছাত্রীর বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে জানতে পেরেছে তাদের মধ্যে পূর্ব বিরোধ ছিল। তারা যদি মামলা দায়ের করে পুলিশ আরও তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

রাত পেঁৗনে নয়টায় ওই কলেজছাত্রী সুনামগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ জানাতে আসে, এসময় ফোনে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় জানায়, তারা দুইবোন সে সিলেটে থেকে পড়াশুনা করে। আগে তারা ঘরের বাইরে গোসল করতো, ওই বখাটে তরুণ আমগাছের উপরে ওঠে ভিডিও করেছে বলে ইতিপূর্বে তাদেরকে জানিয়েছে। সে মাদকাসক্ত মদ গাঁজা খায়। সোমবার তার বাবার (মেয়েটির বাবার) গলায় ছুরি ধরে বলেছে, আমি সন্ত্রাস জন্ম দেই। আমাকে কেউ কিছু করতে পারবে না।

একদিনে সাবেক এমপি মমতাজসহ আ’ লীগের গ্রেফতার ৯

একদিনে সাবেক এমপি মমতাজসহ আ’ লীগের গ্রেফতার ৯

 


রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ৯ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।


 


 


গ্রেফতাররা হলেন, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ বেগম (৫০), রমনা যুব মহিলা লীগ সভাপতি হেলেন আক্তার (৫৫), আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য সুমগ্ন করিম (৪০), ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান অঞ্জন (২৭), ছাত্রলীগের সাবেক কার্যকরী সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক মো. সাজ্জাদ (৪১), মিরপুর ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল (৪৪), ডেমরা থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং বাওয়ানী ইউনিট শাখা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক আকাশ (৩০), ঢাকা মহানগর যুবলীগ-উত্তরের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাহীন (৪০) ও ঢাকা মহানগর আনন্দ বাজার ইউনিট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মিন্টু।


 



মঙ্গলবার (১৩ মে) দুপুরে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এসব তথ্য জানান।


 



তিনি জানান, সোমবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে সাবেক এমপি মমতাজ বেগমকে গ্রেফতার করে ডিবির একটি টিম।

অন্যদিকে, ডিবি-তেজগাঁও বিভাগের একটি দল মগবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে রাত ১০টার দিকে হেলেন আক্তারকে গ্রেফতার করে। একই দিনে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ডিবি-উত্তরা বিভাগের একটি টিম রাজধানীর গুলশান-২ থেকে সুমগ্ন করিমকে গ্রেফতার করে।


 


 


ডিবি-গুলশান বিভাগের একটি টিম রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাহমুদুল হাসান অঞ্জনকে গ্রেফতার করে। এছাড়া ডিবি-রমনা বিভাগের পৃথক টিম বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মো. সাজ্জাদ এবং বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন কাওলা এলাকা থেকে সাইফুল ইসলাম শাহীনকে গ্রেফতার করে।


 


 


ডিসি তালেবুর রহমান আরও বলেন, ডিবি-সাইবার বিভাগের একটি টিম রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোজাম্মেল হক আকাশকে গ্রেফতার করে। একই দিনগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর এলাকা থেকে মো. বাবুলকে গ্রেফতার করে ডিবি-ওয়ারী বিভাগের একটি টিম। বাবুলের বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার চারটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়াও সন্ধ্যা ৬টয়ার দিকে বংশাল এলাকা থেকে মো. মিন্টুকে গ্রেফতার করে ডিবি-লালবাগের একটি টিম।


 



গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে আইনশৃঙ্খলা বিনষ্টের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করার মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল বলেও জানিয়েছেন ডিএমপির এই কর্মকর্তা।

সূত্র:জাগোনিউজ২৪.কম

সুনামগঞ্জে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার ভারতীয় মদ জব্দ

সুনামগঞ্জে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার ভারতীয় মদ জব্দ

 



সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় পৃথক দুইটি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ জব্দ করেছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য চার লক্ষ আটানব্বই হাজার টাকা। গত ১১ মে রবিবার রাতে এই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।


 


 


ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা যায়, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের গামারীতলা থেকে সীমান্ত পিলার ১২০৯/৫-এস থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মালিকবিহীন অবস্থায় ১২০ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করে মাছিমপুর বিওপি। জব্দকৃত মদের আনুমানিক সিজার মূল্য এক লক্ষ আশি হাজার টাকা।


 


 


অপরদিকে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের চিনাউড়া এলাকায় সীমান্ত পিলার ১২১৬/২-এস থেকে প্রায় ১০০ গজ অভ্যন্তরে চিনাউড়া থেকে ২১২ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করে চিনাউড়া বিওপি। এই অভিযানে জব্দকৃত মদের আনুমানিক মূল্য তিন লক্ষ আঠারো হাজার টাকা।


 


 


এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জস্থ ২৮ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির বলেন, ঈদকে সামনে রেখে চোরাচালান রোধে বিজিবি'র অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারী জোরদার করা হয়েছে। জব্দকৃত ভারতীয় মদ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

Monday, May 12, 2025

আ. লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি

আ. লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি

 


আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি


 


আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সোমবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন।


সোমবার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন এরই মধ্যে হয়ে গেছে। অধ্যাদেশ অনুসারে বিষয়টি বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব আমাদের।


জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকার যুক্তিসঙ্গতভাবে মনে করে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এর ধারা-১৮(১) অনুযায়ী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটি এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা দরকার।


 



এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যেকোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।


এতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সদস্য ও ভিন্নমতের মানুষের ওপর হামলা, গুম, খুন, হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন নিপীড়নমূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।



এছাড়া, আওয়ামী লীগ ও এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের বিরুদ্ধে গত ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে গুম, খুন, পুড়িয়ে মানুষ হত্যা, গণহত্যা, বেআইনি আটক, অমানবিক নির্যাতন, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাসী কাজ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে এবং এসব অভিযোগ দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।


উল্লিখিত অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং দেশের ফৌজদারি আদালতে বহু মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।


এসব মামলার বিচারে প্রতিবন্ধকতা তৈরি, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, বাংলাদেশের সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করতে গত ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, উসকানিমূলক মিছিল, রাষ্ট্রবিরোধী লিফলেট বিতরণ এবং অন্যদেশে পলাতক তাদের নেতাসহ অন্য নেতাকর্মী সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অপরাধমূলক বক্তব্য প্রদান, ব্যক্তি ও প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের চেষ্টাসহ আইন-শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ড পরিলক্ষিত হয়েছে।


এসব কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে, দলটি এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের মনে ভীতির সঞ্চার করা হয়েছে ও এভাবে বিচার বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং সার্বিকভাবে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।


এছাড়া, সরকারের কাছে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ আছে যে, আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও অকার্যকর করতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকাসহ জনমনে ভীতি সঞ্চারের উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী সংগঠনের মতো বিভিন্ন বেআইনি কার্যকলাপ ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।


এ অবস্থায় সরকার মনে করে সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ অনুযায়ী আওয়ামী লীগ ও এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিচারকাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটি এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিত।

সূত্র:সমকাল.কম

ভোটেরও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ

ভোটেরও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ

 


নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সব পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেওয়ার কোনো সুযোগ পাবে না দলটি। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দলটির নিবন্ধন বাতিলের ঝুঁকিও রয়েছে। দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধের সরকারি প্রজ্ঞাপন হাতে পাওয়ার পর নির্বাচন বিষয়টি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে ইসি সভা করবে।


 

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য বেগম জেসমিন টুলি গতকাল রবিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত একটি রাজনৈতিক দলের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া মানে সেই দল নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো সুযোগ-সুবিধা পাবে না। ভোটার তালিকা পাবে না, নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নও দিতে পারবে না। ব্যালট পেপারেও ওই দলটির জন্য প্রতীক বরাদ্দ হবে না। নিবন্ধন আপাতত বহাল থাকলেও নিবন্ধিত দলের তালিকায় ওই দলটির ক্ষেত্রে ‘যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত’ কথাটি লেখা থাকবে।


এদিকে নির্বাচন কমিশনও আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে দ্রুত কমিশন সভায় বসতে যাচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন গতকাল সকালে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিষয়ে সরকারি গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় আছি। কাল (সোমবার) গেজেট প্রকাশিত হলে আমরা নির্বাচন কমিশন বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসব। কমিশনের আলোচনার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


বর্তমান বাংলাদেশের স্পিরিট বুঝেই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, আওয়ামী লীগ বিষয়ে সরকারি গেজেট পাওয়ার পর কমিশন বৈঠকেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলে নিবন্ধন বাতিল হবে কি না, সে বিষয়ে আইনগত দিক খতিয়ে দেখে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।


নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদারও মনে করেন, আওয়ামী লীগ পুরোপুরি নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে। দলটি ও দলের শীর্ষ নেতারা এ দেশে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আর কোনো সুযোগ পাবে না।

গতকাল কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে তিনি তাঁর এই ধারণার কথা জানান।

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনেও ১৫ বছরের শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনাকে ‘নৃশংস ইতিহাস’ আখ্যায়িত করে বলা হয়েছে, ‘ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যাদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র গৃহীত হয়েছে (বা হবে), একটি দুর্বৃত্তমুক্ত বাংলাদেশ সৃষ্টির স্বার্থে তাদের নির্বাচনী অঙ্গন থেকে দূরে রাখার কোনো বিকল্প নেই। বস্তুত এসব ভয়াবহ অপরাধীকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হলে পুরো জাতির, বিশেষত যাঁরা জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে চরম আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের রক্তের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার সমতুল্য হবে বলে আমরা মনে করি।’


আইনে যা রয়েছে : গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-১৯৭২ অনুযায়ী, কোনো দলকে নিজেদের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে চাইলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে নিবন্ধন পেতে হয়। আরপিওর ৯০ জ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে কী কারণে কোনো দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারে ইসি। এগুলো হচ্ছে (ক) দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কমিটি, সেটি যে নামেই অভিহিত হোক না কেন, সেই কমিটি যদি দলকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে বা নিবন্ধন বাতিলের জন্য দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বা তাঁদের সমপর্যায়ের পদাধিকারী ব্যক্তি কর্তৃক দলীয় সিদ্ধান্তের কার্যবিবরণীসহ কমিশন বরাবর আবেদন করে; (খ) নিবন্ধিত কোনো রাজনৈতিক দল সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধঘোষিত হয়; (গ) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও বিধিমালার অধীন কমিশনে প্রেরিতব্য কোনো তথ্য [একাদিক্রমে তিন বছর] প্রেরণ করতে যদি কোনো দল ব্যর্থ হয়; (ঘ) কোনো রাজনৈতিক দল কর্তৃক [অনুচ্ছেদ ৯০খ-এর দফা (১) (খ)] (এ দফায় নিবন্ধন পাওয়ার শর্তগুলো উল্লেখ রয়েছে) এর কোনো বিধান লঙ্ঘন করা হয় এবং (ঙ) কোনো রাজনৈতিক দল পর পর দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে তাহলে সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারে ইসি।


নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিলের ক্ষেত্রে ‘নিবন্ধিত কোনো রাজনৈতিক দল সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষণার বিধানটি আলোচনায় আসতে পারে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার দলটিকে নিষিদ্ধ নয়, যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধের কথা বলেছে।

আ. লীগের সাবেক এমপিসহ আরো ১৮২১ জন গ্রেপ্তার

আ. লীগের সাবেক এমপিসহ আরো ১৮২১ জন গ্রেপ্তার

 



সারা দেশে একদিনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপিসহ আরো এক হাজার ৮২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল ররিবার পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর এ তথ্য দেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত ৯৯৬ জন আসামি রয়েছে। এর বাইরে অন্যান্য ৮২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।


অভিযানের সময় একটি পিস্তলসহ গুলি ও অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপিসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের আরো সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।


তাঁরা হলেন সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগ মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীমা আক্তার খানম ওরফে শামীমা শাহরিয়ার, নবীনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন সরকার, রাজধানীর দারুস সালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান মতি, গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআর আই) পরিচালক ও শেখ হাসিনার সহকারী প্রেস সচিব মু. আশরাফ সিদ্দিকী ওরফে বিটু, কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নেছার আহমেদ ওরফে নেছার উদ্দিন হাওলাদার, দারুসসালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. রবিউল ইসলাম ও দক্ষিণ বাড্ডা বাজার ইউনিট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম বিপ্লব।


এ ছাড়া নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পাহাড়পুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু হাসনাত মো. মিজানুর রহমান কিশোর, রাজশাহীর বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম মন্টু, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা, খুলনা মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি লিভানা পারভীনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বললেই গ্রেপ্তার

সামাজিক মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বললেই গ্রেপ্তার

 


আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় দলটির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে আর আইনি জটিলতা নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ। এত দিন নিষিদ্ধ ঘোষণা না থাকায় অনেক সময় মাঠপর্যায়ে গ্রেপ্তার নিয়ে দোটানায় থাকতেন কর্মকর্তারা। এখন আর সে বাধা থাকছে না। সরকারি আদেশ কার্যকর হওয়ার পর থেকে পুলিশ চাইলে সমাবেশ-মিছিল বা গোপন বৈঠকে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করতে পারবে।

রোববার (১১ মে) পুলিশের একাধিক সূত্র ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা এসব তথ্য জানান। 

জানা গেছে, সোমবারই (আজ) আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে সরকারি আদেশ জারি হতে যাচ্ছে। এরপরই পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হবে।

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো কার্যক্রম ঢাকা রেঞ্জে চলতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে এসপিদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, কাগজে-কলমে নিষিদ্ধ ঘোষণা না হলেও আওয়ামী লীগ এখন কার্যত নিষিদ্ধ দলের তালিকায়। ফলে দলের পক্ষে কোনো মিছিল, সমাবেশ কিংবা গোপন বৈঠক হলে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারবে। এমনকি দলের পক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট বা মন্তব্য করলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাইবার অপরাধ দমন শাখার এক কর্মকর্তা জানান, ‘ফেসবুক-ইউটিউবে আওয়ামী লীগের পক্ষে কেউ কিছু বললে, পোস্ট দিলে বা মন্তব্য করলে—এমনকি বিদেশে বসে করলেও—তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা করা যাবে। দেশে ফিরলেই গ্রেপ্তার হবে। এই আদেশ অমান্যকারীরা শাস্তিযোগ্য অপরাধ করছেন বলে বিবেচিত হবেন।’

সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারে আর কোনো প্রশ্ন থাকবে না। সরকারের জারি করা আদেশ অনুযায়ী পুলিশ আইনগত বৈধতা পেয়েছে।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘পেনাল কোডের ১৮৮ ধারায় বলা হয়েছে, সরকার কোনো আদেশ জারি করলে তা অমান্যকারীকে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া যেতে পারে। এখন এই ধারা অনুযায়ী গ্রেপ্তার হবে।’


 এদিকে, অনলাইনেও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি জানান, শুধু অফলাইনে নয়, সাইবার স্পেসেও দলটির উপস্থিতি বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘পরিপত্র জারি হলেই বিটিআরসির মাধ্যমে মেটাসহ অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চিঠি পাঠানো হবে। ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার—সবখানেই দলটির কার্যক্রম বন্ধ করা হবে।’

ফেসবুকে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ নামের দলটির ভেরিফায়েড পেজে বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ ফলোয়ার রয়েছে। সেটিও নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

সূত্র:ইত্তেফাক.কম